জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা প্রয়োজন

Scream
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভাববাদী দর্শনবাদীরা হয়তো বলবেন : এমন মৃত্যুই তার ভবিতব্য হিসেবে নির্দিষ্ট ছিল। আর বস্তুবাদীরা বলবেন : ঘটনা সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। আমরা বলি এ জাতীয় ঘটনাকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে। সেখানে ঘাটতি থাকলে ভবিতব্য সত্য হয়ে ওঠে, সান্ত্বনা জোগায় এবং তা আপন শক্তিকে, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতাকে বিসর্জন দিয়ে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড এমন সব জল্পনা বা আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।
অথচ তত্ত্ব কথার ফুলঝুরিতে না গিয়ে দুটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের শিরোনাম বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পেরেছে। একটি শিরোনামে বলা হয়েছে : ‘খুনিরা দিব্যি চলে গেল/ পুলিশ নীরবে দেখল।’ সংক্ষিপ্ত বাক্যে অনেক কিছু বলা হয়ে গেল খুন, খুনি ও সমাজকে নিয়ে। চমৎকার এ বিষয়ে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উক্তি : ‘পুলিশ ঘটনা দেখে মনে করেছিল, মারামারি হচ্ছে।’ যদি তেমন কিছু হয়ে থাকে তাহলেও পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল ছুটে যাওয়া এবং যথাবিহিত ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু সেসব দায়িত্বের কিছুই পালন করেনি পুলিশ। পুতুলের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে বুঝিয়ে দিয়েছে, কর্তব্য পালনের দায় তার নেই, অথবা অন্য কোনো কারণ এর পেছনে সক্রিয়।
দ্বিতীয় দৈনিকের শিরোনামটিও তিন কলামে আরও সংক্ষেপে ব্যঙ্গাÍক : ‘চারদিকে পুলিশ/মাঝখানে খুন।’ আমাদের পুলিশ বাহিনী চরিত্র বুঝিয়ে দিতে এর চেয়ে ভালো শিরোনাম আর কিইবা হতে পারত। তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয়ের ফলাফল যদি এমন হয় তাহলে প্রশ্ন ওঠে : কয় স্তর নিরাপত্তাব্যবস্থায় সত্যিকার নিরাপত্তা বিধান করা যাবে? জবাব পাওয়াটা জরুরি এ কারণে যে, জীবন মহামূল্যবান এক সত্য যা একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যায় না, সে জন্য যত বিলাপ হাহাকার করা হোক না কেন।
তবে এসব শিরোনামের মধ্যে ছোট ছোট ঘটনায় যে সত্য পরিস্ফুট তা আরও গুরুত্বপূর্ণ, তা আমাদের সামাজিক চরিত্রের পরিচয় তুলে ধরেছে এবং তা হল সামাজিক দায়বদ্ধতা, সমাজচেতনা ও মানবিক চেতনার মতো বহু কিছুর অভাব। সামাজিক অবক্ষয় ও স্বার্থপর আÍচেতনার ছবিটাও সেখানে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। এর ফলে অকালে একটি মূল্যবান জীবন শেষ, একটি পরিবার ঘিরে সর্বনাশ নেমে এলো। বুঝিয়ে দিয়ে গেল, বাংলাদেশে জীবন কেমন সস্তায় বিকোয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবও সামাজিক অবক্ষয়ের দিকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন অকুস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ফটোসাংবাদিক বলেন : ‘হামলার পর অভিজিৎ ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে পড়ে কাতরালেও কেউ হাসপাতালে নেয়ার আগ্রহ দেখাননি।’ (২৮-২-২০১৫)। তবে এটাও সত্য, বক্তা সেই সাংবাদিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ফুচকা বিক্রেতা যিনি দুই ঘাতকের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি কিন্তু সাহায্যে এগিয়ে যাননি। প্রতিরোধে এগিয়ে যায়নি আশপাশের মানুষজন। গেলে ঘটনা ভিন্ন রূপ নিতে পারত।
চাপাতির মুখে প্রাণের ভয় থাকলেও চাপাতি ফেলে দিয়ে ঘাতকরা যখন পালিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের ধাওয়া করলে আশপাশের মানুষ তাদের ঘিরে ফেলতে বা ধরে ফেলতে পারতÑ কিন্তু কেউ তেমন মানবিক চেতনা বা সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় রাখেনি।
ঘটনার বিশ্লেষণে আমাদের মনে হয় (যা ভাবতে কষ্ট) যেন পারিপার্শ্বিক পরিবেশ খুন ও খুনিদের নির্বিবাদে চলে যেতে সাহায্য করেছে। আশ্চর্য হই বিদেশীর মুখে এমন ভাবনার উচ্চারণ শুনে।
ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাবভেরি বলেছেন : কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বইমেলার কাছে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সেকুলারপন্থী ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা করার ঘটনায় সারা বিশ্ব আতংকগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও খুনিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে (২-৩-২০১৫)। এ বক্তব্যের সঙ্গে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর জামিনে মুক্তি সম্পর্কিত মন্তব্যের সূত্র সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সংবাদপত্রে উল্লিখিত কয়েকটি ঘটনার নিহিত তাৎপর্য তেমন ইঙ্গিতই দেয়। একটি দৈনিকে ডিবি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ব্লগার রাজীব হত্যার পর থেকে পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বে থাকা রানা পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, এ খুনেও রানার সম্পৃক্ততা আছে। এছাড়া ব্লগারদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার জন্য শফিউর রহমান ফারাবীকে সন্দেহ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। ফারাবী অভিজিৎকে হত্যা করতে চান এমন মন্তব্য ফেসবুকেও করেছেন। এতে বলা হয়, ‘অভিজিৎ রায় আমেরিকায় থাকে। তাই তাকে এখন হত্যা করা সম্ভব নয়। তবে সে যখন দেশে আসবে তখন তাকে হত্যা করা হবে।’ (২৮-২-২০১৫)।
বাস্তবে তাই ঘটেছে। সে ক্ষেত্রে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কি উচিত ছিল না ঢাকায় অভিজিৎ দম্পতির জন্য যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা করা?
তাছাড়া যে সরকার ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিদের তৎপরতা বন্ধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাদের স্বরাষ্ট্র দফতরের কি উচিত ছিল না জঙ্গিবাদ দমনে, নিরীহ ব্লগারদের প্রাণরক্ষায় আরও সতর্ক, আরও কর্মতৎপরতা হওয়া? হলে একের পর এক ঘটনা ঘটত না সেই ২০১৩ সাল থেকে।
ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও বাঁচেননি রাজীব হায়দার (ফেব্র“য়ারি ২০১৩)। তখনই বেরিয়ে আসে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম এবং হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা। সংগঠনের প্রধান গ্রেফতার হলেও মামলা এখনও বিচারাধীন। ইতিমধ্যে দু’বছর কেটে গেছে। এর মধ্যে ঘটেছে একই কায়দায় একাধিক হত্যা। একই ধারায় ১৫ নভেম্বর (২০১৪) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে হত্যার পর আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামের ফেসবুকে এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলা হয় : ‘আমাদের মুজাহিদীনরা আজকে রাজশাহীতে এক মুরতাদকে কতল করেছেন, যে তার ডিপার্টমেন্টে ও ক্লাসে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করেছিল। ওই ওয়েব পেজে বলা হয়, রাজীব হায়দার ও আশরাফুল আলমের ধারাবাহিকতায় শফিউল ইসলামকে খুন বরা হয়েছে।’ অথচ র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, এ হত্যা নারীঘটিতে কারণে এবং মানুষ তাই বিশ্বাস করেছিল। পরে থলে থেকে বিড়াল বেরিয়ে আসে।
অভিজিৎ হত্যাও এ ধারাবাহিকতার পরিণাম। মুক্তচিন্তা বা স্বাধীন চিন্তা-ভাবনার স্থান বাংলাদেশে সংকুচিত করে আনা ও বন্ধ করে দেয়া এসব উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর লক্ষ্য। ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি তরুণ ও যুবাদের মধ্যে জনপ্রিয় বিধায় ব্লগারদের ওপর নৃশংস আক্রমণ। কয়েক বছর ধরে এসব বিষপাড়ের ধর্মীয় মৌলবাদী ও সন্ত্রাসবাদী প্রবণতা ক্রমে বেড়ে চলেছে।
তা সত্ত্বেও আমাদের অবাক করে গোয়েন্দা বিভাগ, র‌্যাব প্রভৃতির চিন্তা-ভাবনা। ফেসবুকে, টুইটারে স্বীকৃতির পরও তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখছেন, এসব জঙ্গি সংগঠন ব্লগার হত্যা বা অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত কিনা বা কতটা জড়িত। ফেসবুকে ফারাবীর বক্তব্য ও বিজয় উল্লাস এবং অন্যত্র ‘টার্গেট ডাউন’ লেখার পরও কি সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে যে, আনসারুল্লাহ টিমের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর দায় সম্পর্কে? বরং দরকার গোয়েন্দা দফতর, নিরাপত্তা প্রশাসনের বিভিন্ন গ্র“প থেকে ব্যাপক অনুসন্ধানী তৎপরতা। অভিজিতের পিতা অধ্যাপক অজয় রায় বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার জন্য উগ্র জঙ্গিবাদীরাই দায়ী। এতে মদদ দিয়েছে জামায়াত। বর্তমান সরকার খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে আশা করছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার সন্তানের বিচার চাই।’
আমরাও আশা করব, এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের সুবিচার। কিন্তু ইতোপূর্বে ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ডসহ এসব উগ্রপন্থীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্ত তৎপরতা যেভাবে সময় সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাতে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাণ্ড কতদিনে শেষ হবে বা আদৌ শেষ হবে কি না কে জানে। জানি না এফবিআই কতটা কি করতে পারবে।
এ হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া, বাংলাদেশের সামজে বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কারণে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হয়তো সর্বাÍক চেষ্টা চালাবে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যথাযথ ভাষায়। কিন্তু আমাদের মনে হয়, গোটা বিষয়টিকে সরকারের আদর্শিক বিন্দু থেকে বিবেচনা করে সর্বাÍক লড়াইয়ের মনোভাব নিয়ে তৎপর হওয়া উচিত। লক্ষ্য হওয়া দরকার এ জাতীয় উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সমূলে উৎপাটন।
এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট। গোটা বাঙালি সমাজে শুদ্ধ গণতান্ত্রিক সেকুলার চেতনার প্রকাশ নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যৎ সফলতা ধরা দেবে না। এ বিষয়ে দলমতগত ঐক্যও প্রয়োজন। সরকারের দিক থেকে যেমন দরকার সর্বোচ্চ দক্ষতার আন্তরিক প্রচেষ্টা তেমনি চাই সমাজের পক্ষ থেকে সমর্থন। এখানে রয়েছে ঘাটতি। তা না হলে বিদেশী ব্যক্তিত্ব এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে পারতেন না।
শর্ষের মধ্যে ভূতের আশংকার কারণেই কি গত কয়েক বছরেও ব্লগারবিরোধী, মুক্তচিন্তাবিরোধী উগ্র ধর্মবাদীদের নির্মূল করা দূরে থাক ওদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যায়নি? বিশ্বজিৎ হত্যা ঘটনায় কেউ কেউ আঙুল তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পারে দিকে, কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর শৈথিল্যের দিকে। আমাদের মনে হয় এ বিষয়ে অনেক সময় পার হয়ে গেছে। সরকার পক্ষে এখন দরকার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে আটঘাট বেঁধে এ জিহাদিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনুরূপ পাল্টা তৎপরতায় নামা। তা না হলে একদিন এ বিষঝাড় এ দেশে শুদ্ধি চেতনার মৃত্যু ঘটাবে।

আহমদ রফিক কবি প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সমাজ ও রাজনীতি

শিল্প-সাহিত্য

ক্রীড়া

এবার আকাশে ওড়ার পালা

ফুটবলে আশার আলো মেয়েরা। সেই আলোটা দেখাচ্ছে কৃষ্ণা-সানজিদারা।…

ফিচার

সৌদি মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের মরুদ্যান

মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। ঊষর মরুর ধূসর বুকেই কিনা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবুজের জয়গান! মরুভূমির ধুলাবালির মাঝে গড়ে উঠছে কৃষিখামার।…

বিনোদন

মা হচ্ছেন সুনিধি চৌহান

সোমবার ছিল বলিউড গায়িকা সুনিধি চৌহানের ৩৩তম জন্মদিন। আর এদিনই জানালেন খুশির খবরটি, মা হতে চলেছেন এই গায়িকা। সম্প্রতি সুনিধি…

বাজার ও অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকারের রেকর্ড

সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার, যা এ…

রাজধানী

বইয়ের জগৎ

An error occured during creating the thumbnail.

রাতের প্রতিপক্ষ একটি বাতি

অনাত্মীয় সুতোদোর টানাপোড়েনে তৈরি যে ঘনবদ্ধ কাপড় তা আপনার দেহকে ডেকে রাখবে সত্যি কিন্তু মনের আবেগকে না। অন্যের কাছে আত্মীয়হীন…

ইভেন্ট

An error occured during creating the thumbnail.

মায়ের প্রতি ভালবাসা

আজ ১৪ মে রোববার বিশ্ব মা দিবস। মা দিবস একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক…