পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতি

Scream
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেমন হতো আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা যদি বঙ্গবন্ধু ‘বেঁচে থাকতেন’ এবং সেই সঙ্গে যদি বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ মাটি উত্থিত বৈষম্য হ্রাসকারী উন্নয়ন দর্শন’ বাস্তবায়িত হতো? এ প্রশ্নের বস্তনিষ্ঠ ও নির্মোহ সম্ভাব্য উত্তর অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিষয়াদির বিশদ বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রগতির মাত্রা কেমন হতে পারত তা নিরূপণ করতে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ইতিহাসের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যগুলো, মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে ক্ষয়-ক্ষতির প্রভাব-অভিঘাতসহ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর ১৩১৪ দিনে (অর্থাৎ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত,) ‘সোনার বাংলার’ ভিত গঠনে তিনি যা করেছিলেন তার বিশ্লেষণ খুবই জরুরি। আর ওই বিশ্লেষণের নিরিখে বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবিত উন্নয়ন দর্শনের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুসিদ্ধান্ত অবলম্বনে বিভিন্ন হিসাব-পত্রের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু ‘বেঁচে থাকলে’ আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কতদূর যেত এ বিষয়টিই এ নিবন্ধের প্রতিপাদ্য বিষয়। সংক্ষেপে যে বিষয়গুলো উঠে আসে তা হল-
(ক) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনটা যথেষ্ট সংক্ষিপ্ত মাত্র ৫৫ বছরের (১৯২০-১৯৭৫)। তার মধ্যে সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন আনুমানিক ৩৭ বছর, মুক্তিযুদ্ধের আগে প্রায় ৩৩ বছর আর মুক্তিযুদ্ধের পর (১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত) মাত্র সাড়ে তিন বছর (১৩১৪ দিন)। ১৯৭২-এর মহান মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের ৪০ শতাংশ সময় বঙ্গবন্ধু জেলে জেলে কাটিয়েছেন। আর ৪৮ শতাংশ সময় ব্যয় করেছেন মানুষের সঙ্গে জীবন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে সংগঠন গড়ে তোলাসহ মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে, ঘুমিয়েছেন মাত্র ১২ শতাংশ সময় (দিনে গড়ে ৩-৩.৫ ঘণ্টা)। কারণ একটিই তা হল নিখাদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) ন্যায্য অধিকার আদায়ের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে ছিলেন অনড়-অটল-অবিচল বিশ্বস্ত। দেশ-বিদেশের কোনো শক্তি বঙ্গবন্ধুকে এ প্রশ্নে নুন্যতম মাত্রায় কক্ষচ্যুত করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের জনগণের অন্তর্নিহিত অসীম সুপ্ত শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণ এবং কেবল জনগণই ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম নেতৃত্ব সেখানে উপলক্ষ মাত্র। যে কারণেই বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিটি ছিলেন মানুষের প্রতি নিঃশর্ত আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা, মমত্ববোধ, সহমর্মিতা, মহানুভবতাসহ দেশপ্রেমের যত রূপ আছে সবকিছুর একীভূত এক বিরল সত্তা। যে কারণেই মানুষের বিশেষত দুঃখী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রশ্নে রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে আপসহীন তা মুক্তিযুদ্ধের আগেই হোক বা মুক্তিযুদ্ধের পরেই হোক। আন্দোলন-সংগ্রামের এ প্রক্রিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমান দিন-রাত মাঠে-ঘাটে রাজনীতির সাধারণ কর্মী থেকে ধাপে ধাপে রূপান্তরিত হন ‘বঙ্গবন্ধু’ তে তারপর ‘বঙ্গবন্ধু’ থেকে ‘জাতির পিতা’য়। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম এবং তার ফসল ১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং পরবর্তীকালে মুক্ত-স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র-সমাজ গঠনে অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এ প্রক্রিয়ার পুরো সময়টাতেই (অর্থাৎ তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের ৩৭ বছর) তিনি সবসময়ই বিদেশী-দেশী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বঙ্গবন্ধুবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর দর্শনবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গঠনের বিপক্ষ শক্তির, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর বিপক্ষ শক্তির, সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ার বিরুদ্ধ শক্তির, অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ বিরোধী শক্তির এ ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে কার্যকর হল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের বর্বরতম নৃশংসতম হত্যার মাধ্যমে। এ হত্যা শুধু বঙ্গবন্ধুর মতো ইতিহাসে একজন বিরলপ্রজ ব্যক্তিকে হত্যা নয় এ হত্যা একটি স্বাধীন জাতির সুস্থ-সবল-চেতনাসমৃদ্ধ-আলোকিত ভেদহীন জাতিতে রূপান্তরের স্বপ্নের হত্যা।
(খ) বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন ছিল এ দেশের গণমানুষের সুখ-সমৃদ্ধি (well-being অর্থে) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গভীর মানবিক সংগ্রামী দর্শন (deeprooted humane philosophy towards people’s well-being)। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন দর্শনের ভিত্তি-শক্তি ছিল গণমানুষ। আর ওই বিশ্বাস যে জনগণ এবং কেবল জনগণই ইতিহাস সৃষ্টি করে। আর তার উন্নয়ন দর্শনটি ওই রাজনৈতিক জীবন দর্শনেরই প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এভাবে যে, উন্নয়ন হবে মানুষের ন্যায্য-ন্যায় অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিভিত্তিক স্বাধীনতা-মধ্যস্থতাকারী (rights based liberty and freedom-mediated process) একটি প্রক্রিয়া যেখানে সবার জন্য, বিশেষত গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের জন্য পাঁচ ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। যার মধ্যে থাকবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সুযোগ, সামাজিক সুবিধাদি, স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা, এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা-সুরক্ষার স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনটি তারই উদ্ভাবিত ও ধারণকৃত ‘দেশের মাটি উত্থিত অথবা স্বদেশজাত উন্নয়ন দর্শন’ (Home grown development philosophy), যে দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত উন্নয়ন হল, এমন এক প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ায় নির্মিত হবে সুস্থ-সবল-চেতনাসমৃদ্ধ-ভেদ-বৈষম্যহীন-আলোকিত মানুষের সংঘবদ্ধ-সংহতিপূর্ণ সমাজ ও অর্থনীতি ব্যবস্থা।
বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনে বৈষম্যহীন অর্থনীতি ও সমাজ বিনির্মাণের বিষয়টি ছিল অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। এ দর্শনে একইসঙ্গে অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ-বয়স-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন ভিত্তির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল নীতি-নৈতিকতার নিরিখে সব মানুষ, মানুষ হিসেবে সমান। যে কারণে ১৯৭২-এর সংবিধানে ‘জনগণ এবং কেবল জনগণই সার্বভৌম’ (জনগণই হইবেন প্রজাতন্ত্রের মালিক, সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭) এ ভিত্তি দর্শন অবলম্বনে চার মূল স্তম্ভ গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র সমুন্নত রেখে দেশ পরিচালন তথা উন্নয়ন ভাবনার অন্যান্য সব সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অঙ্গিভূত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের বৈশিষ্ট্য হল বৈষম্যহীন এক অর্থনীতি-সমাজ-রাষ্ট্র গঠন এবং সেইসঙ্গে অসাম্প্রদায়িক (secular) মানস কাঠামো বিনির্মাণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। এ উন্নয়ন দর্শনে নতুন সমাজব্যবস্থার ভিত রচনায় পুরনো সমাজব্যবস্থা উপড়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবিত ও বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ধারণ-লালনকৃত দেশের মাটি উত্থিত উন্নয়ন দর্শনের ভিত্তিতেই বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে যে বাংলাদেশে জন্মসূত্রে কেউ দরিদ্র থাকবে না, যে বাংলাদেশে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি হবে চিরস্থায়ী, যে বাংলাদেশ হবে চিরতরে ক্ষুধামুক্ত-শোষণমুক্ত, যে বাংলাদেশ হবে বঞ্চনামুক্ত-সমতাভিত্তিক-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশে মানবমুক্তি (liberty অর্থে) নিশ্চিত হবে, হবে তা সুসংহত ও সুদৃঢ়, যে বাংলাদেশে নিশ্চিত হবে সব মানুষের সুযোগের সমতা, যে বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল হবে, হবে স্বনির্ভর-স্বয়ংসম্পূর্ণ; যে বাংলাদেশ হবে ‘সোনার বাংলা’। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন দর্শনসহ এ উন্নয়ন দর্শন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়ার আগেই বিদেশী-দেশী বঙ্গবন্ধু দর্শনবিরোধী চিরস্থায়ী শত্রুরা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে যেমন ষড়যন্ত্র করেছে তেমনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ষড়যন্ত্রের গতি বৃদ্ধি করে স্বাধীন বাংলাদেশকে পশ্চাৎমুখী একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে (পরিবার-পরিজনসহ) হত্যা করেছে। এবং গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীরা ঠিক সেই সময়টাকে বেছে নিয়েছিল যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু তারই উদ্ভাবিত উন্নয়ন দর্শন প্রয়োগে প্রগতিমুখী-উন্নয়নমুখী (take off) করে গড়ে তুলছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করছিলেন (হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও ইতিহাসে অনুদ্ঘাটিতই রয়ে গেছে, আংশিক উদ্ঘাটিত হয়েছে তারা যারা ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়নকারী)। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ইতিহাসের একটা শিক্ষার কথা মনে রাখা সঙ্গত হবে : বিষয়টি হল বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’, তবে সে মানুষের কেউ যদি মোশতাক-তাহেরউদ্দিন ঠাকুর-মাহবুবুল আলম চাষী-জিয়াউর রহমান রাজাকার-আলবদর-আলশামস হয় সে ক্ষেত্রে ওই ধরনের অমানুষের প্রতি বিশ্বাস হবে আত্মঘাতী। শুধু ব্যক্তির জন্য নয় সমগ্র জাতির ভাগ্যের জন্যও।
(গ) মুক্ত-স্বাধীন-ক্ষুধামুক্ত-শোষণমুক্ত-বৈষম্যহীন-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুই সর্বপ্রথম বুঝেছিলেন যে স্বৈর-সেনা-সামন্তশাসিত পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে থেকে ওই স্বপ্ন বাস্তবায়ন অসম্ভব। যে কারণে জেল-জুলুম-হুলিয়া-নির্যাতন-নিবর্তন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের কারাগারে (যখন তারই সামনে তার কবর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল) থাকা অবস্থাতেও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন পূর্ণমাত্রায় সচেতন, বিশ্বস্ত এবং আপসহীন। তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জনগণকে আহ্বান করলেন আর জনগণ তারই ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই দেশ স্বাধীন করল। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিলেন আর আমরা তা রক্ষা করতে পারলাম না।
(ঘ) একদিকে জনসংখ্যা বেশি হওয়ার পরও পাকিস্তানের স্বৈর-সেনা-সামন্ত আধা-ঔপনিবেশিক কাঠামোর মধ্যে ২৩ বছরের শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্যের কারণে পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানের (অর্থাৎ ‘আজকের বাংলাদেশের’) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল কম আর অন্যদিকে পাকিস্তান কর্তৃক আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায় যুদ্ধে (যার মোকাবিলায় আমরা নিরস্ত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে পরবর্তী পর্যায়ে সশস্ত্র হয়েছিলাম) পাকিস্তানিদের ‘পোড়ামাটি নীতি’র কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত সব ধরনের অর্থনৈতিক অবকাঠামো (রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি) এবং পারিবারিক অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্তিসহ (প্রায় তিন কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত হন) ৩০ লাখ মানুষ শহীদ (যাদের মধ্যে ২৫ লাখ গ্রামের যুবক ও কর্মক্ষম জনশক্তি, যাদের বেশিরভাগই গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা এবং যাদের বৃহৎ অংশ ছিলেন পরিবারের একমাত্র কৃষিজীবী মানুষ) হওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে কৃষি-শিল্পে মেহনতি মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায় যার প্রত্যক্ষ ফল হল পাকিস্তান আমলে বৈষম্যজনিত কারণে অপেক্ষাকৃত মাত্রার স্বল্প মোট দেশজ উৎপাদন স্বল্পতর হয়ে গেল। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হল যখন তার সব মেধা-মনন, জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক-বিবেচনা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, সততা দিয়ে তিনি তারই উদ্ভাবিত উন্নয়ন দর্শন প্রয়োগ করে কল্পনাতীত স্বল্পসময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসনের নির্মাণ-পুনঃনির্মাণ, গঠন-পুনর্গঠন, পুনর্বাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করলেন। এ ক্ষেত্রে মাত্র ১৩১৪ দিন দেশ পরিচালনায় অগ্রাধিকারক্রম ও কর্মধাপ (priority and sequencing) বিবেচনা বিশ্লেষণে বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টিসহ রাষ্ট্র নায়কের পরিচয়টা স্পষ্ট প্রতীয়মান। তবে ঠিক যে সময়ে বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে (১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ রমনা রেসকোর্স ময়দানে জনসভার ভাষণে) সমাজতন্ত্রের কথা আরও জোর দিয়েই বলা শুরু করলেন, দুর্নীতিবাজদের উত্থান ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ডাক দিলেন, শর্তাধীন বৈদেশিক সাহায্য না নেয়ার কথা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বলা শুরু করলেন (বললেন, তিনি ভিক্ষুক জাতির নেতা হতে চান না), ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থা পাল্টে নতুন সমাজব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করার কথা আরও উচ্চ স্বরে বলা শুরু করলেন, গ্রামে গ্রামে বাধ্যতামূলকভাবে বহুমুখী সমবায় গঠনের কথা বললেন, শিক্ষিত সমাজসহ আমলা-বুদ্ধিজীবীদের মন-মানসিকতার দারিদ্র্যের কথা উল্লেখ করে চরিত্র শুদ্ধির তাগাদা দিলেন, যুবসমাজকে ফুলপ্যান্ট ছেড়ে হাফপ্যান্ট পরে বহুমুখী সমবায়ে কাজ করার তাগিদ দিলেন, ঔপনিবেশিক বিচারব্যস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গরিব দেশের বিরুদ্ধে ধনী দেশের ব্যবসায়ী মারপ্যাঁচের বিষয়াদি উল্লেখ করলেন, তখন থেকেই একদিকে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র আর অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানসহ ওই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের দালাল-দোসরদের বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী তথা বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনবিরোধী যৌথ পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড অতীতের তুলনায় আরও অনেক বেশি দ্রুততার সঙ্গে ও কার্যকরভাবে জোরদার হতে থাকল। প্রতিবিপ্লবীদের জয় হল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে। এরপর থেকে শুরু ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ বাংলাদেশের উল্টো পথে যাত্রা। এখান থেকেই শুরু আমাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার সুপ্ত আকাঙ্খার অকাল মৃত্যু।
(ঙ) বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময় ধরে উল্লিখিত প্রতিক্রিয়াশীল যৌথ শক্তির উদ্যোগে লাগাতার সেনাশাসন, স্বৈরতন্ত্র, সেনাশাসনের মোড়কে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি তোষণ-পোষণ, ধর্মীয় মৌলবাদের রাজনীতি ও অর্থনীতির বাড়বাড়ন্ত, এ সবই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড করে সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই তার বিপরীতে অর্থনীতি ও রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়িত করল। এ ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি শুধু পুনর্বাসিতই হয়নি তারা ২০-২৫ বছরে এমন এক ব্যবস্থা-কাঠামো সৃষ্টি করেছে যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যে বা যারাই থাকুন না কেনো প্রকৃত চালকের আসনে শক্তভাবে জেঁকে বসেছে তারা যারা নিজেরা কোনো সম্পদ সৃষ্টি করে না। যারা অন্যের সম্পদ হরণ, দখল, বেদখল, জবরদখল, আত্মসাৎকরণের মাধ্যমে rent seeker (লুটেরা, পরজীবী, ফাও খাওয়া শ্রেণী, দুর্বৃত্ত) গোষ্ঠী মাত্র; এবং এই rent seeker গোষ্ঠী এমন এক অবস্থা সৃষ্টি করেছে যেখানে সরকার ও রাজনীতি তাদেরই কথায় ওঠাবসা করে। এটাই ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রকৃত সত্য ভাষ্য যা অস্বীকার করলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন ধারণ করে ভবিষ্যতে এগুলো দুরূহ হবে।
(চ) এত গেল ১৯৭৫ পরবর্তী ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ বাংলাদেশের বিগত প্রায় চার দশকের কথা। বঙ্গবন্ধু ‘বেঁচে থাকলে’ আর সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবিত উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়িত হলে ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক প্রগতি কোথায় গিয়ে ঠেকত? এ প্রশ্নের উত্তরে বেশ কিছু যৌক্তিক অনুুসিদ্ধান্ত ব্যবহার করে অর্থনীতির কয়েকটি চলকের (macroeconomic variable) সম্ভাব্য পরিমাণ পরিমাপ করা হয়েছে এবং তা একদিকে তুলনা করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ আজকের বাংলাদেশের সঙ্গে আর অন্যদিকে ‘আজকের মালয়েশিয়ার’ সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে তুলনীয় হিসেবে ধরার পেছনে কয়েকটি যুক্তি কাজ করেছে: (১) পথ চলার শুরুর দিকে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশেই মোট দেশজ উৎপাদন ও মোট জাতীয় আয় প্রায় সমান ছিল (যদিও মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা ছিল, বাংলাদেশের তুলনায় ৬.৫ গুণ কম, অর্থাৎ অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ‘মাথাপিছু’ দেশজ উৎপাদন ও আয় আমাদের তুলনায় মালয়েশিয়ার ৬.৫ গুণ বেশি হওয়ার কথা); (২) বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশেরই ১৯৭৩ এ পথচলার শুরু জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বে; (৩) বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশেরই পথচলা শুরু ‘দেশজ উন্নয়ন দর্শন’ অবলম্বন করে (তবে মৌলিক পার্থক্য যেখানে তা হল বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছিলেন আর মালয়েশিয়ার ড. মাহাথির মোহাম্মদ সে পথে যাননি)। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশের আজকের অর্থনীতির অবস্থা কেমন হতো তা নিরূপণের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক শ্রেণী কাঠামোর কি ধরনের সম্ভাব্য পরিবর্তন-রূপান্তর ঘটত সেটাও নিরূপণের প্রয়াস নেয়া হয়েছে।
আমার হিসাবপত্তর স্পষ্ট নির্দেশ করে যে অর্থনীতির প্রধান মানদণ্ডগুলোর নিরিখে ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি আজকের মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে অনেক গুণ ছাড়িয়ে যেত এবং সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের বৈশিষ্ট্যের কারণেই আর্থ-সামাজিক শ্রেণী কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে শ্রেণীবৈষম্য হ্রাস পেয়ে সমাজ সমতাভিমুখী হতো যা মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং একইসঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ আজকের বাংলাদেশে যা চরম বৈষম্যমূলক (যে কারণে আমি বলি যে বৈষম্যপূর্ণ দুই অর্থনীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা লড়াই-সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধ করলাম আবারও সেই বৈষম্যপূর্ণ দুই অর্থনীতির ফাঁদে পড়েছে আজকের বাংলাদেশ)।
‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হতো ৪২ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার যা একই সময়ের মালয়েশিয়ায় ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার অর্থাৎ মালয়েশিয়ার তুলনায় ২.৭৩ গুণ বেশি এবং একই সময়ের ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ আজকের বাংলাদেশের তুলনায় ৪.৭৬ গুণ বেশি। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপি মালয়েশিয়াকে অতিক্রম করত (যদিও বা একই সময়ে মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা আমাদের তুলনায় ৪ গুণ কম) আমাদের মাথাপিছু জিডিপি হতো ৬ হাজার ৬১ ডলার যা মালয়েশিয়ায় ৫ হাজার ৩৪৫ ডলার। মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ক্ষেত্রেও ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে ২.৮ গুণ অতিক্রম করত। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় হতো ৪২ হাজার ৫১৪ কোটি ডলার বিপরীতে এখন মালয়েশিয়ার মোট জাতীয় আয় ১৫ হাজার ৫ কোটি ডলার। এ ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশে মাথাপিছু জাতীয় আয় হতো ৫ হাজার ৫৯৮ ডলার যা মালয়েশিয়ায় একই সময়ে ৫ হাজার ১৯৯ ডলার। প্রকৃত অর্থে তুলনীয় পিপিপি ডলারে মাথাপিছু প্রকৃত জাতীয় আয়কে অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিমাপনের অপেক্ষাকৃত শ্রেয় মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশে মাথাপিছু প্রকৃত জাতীয় আয় (পিপিপি ডলারে) এখন হতো ১৪ হাজার ১০০ ডলার যা মালয়েশিয়ায় ১৩ হাজার ৮২২ ডলার, আর ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ আজকের বাংলাদেশে মাথাপিছু প্রকৃত জাতীয় আয় মাত্র ১ হাজার ৮৯০ ডলার (অর্থাৎ ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৭.৫ গুণ কম)। অর্থনীতির মূল চলকগুলোর নিরিখে ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ আজকের বাংলাদেশ আজকের মালয়েশিয়াকে শুধু অতিক্রম করত তাই-ই নয় বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের সমতাভিমুখী বৈশিষ্ট্যের কারণে তা হতো প্রগতিশীল বৈষম্যহ্রাসকারী মাথাপিছু উৎপাদন অথবা বৈষম্যহ্রাসকারী মাথাপিছু প্রকৃত আয়।
(ছ) বঙ্গবন্ধু ‘বেঁচে থাকলে’ এবং সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রগতিবাদী উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক শ্রেণী কাঠামোর আমূল পরিবর্তন-রূপান্তর ঘটে যেত। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশে মোট ১৫ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ০.০৭ শতাংশ হতো ধনী যা ‘বঙ্গবন্ধুহীন’ আজকের বাংলাদেশে ২.৭ শতাংশ (এ গ্রুপে জনসংখ্যার ১ শতাংশ অত্যুচ্চ ধনী বা super duper rich আছেন যারাই আজ অর্থনীতি-রাজনীতি-রাষ্ট্র-সরকার সবকিছুরই মূল নিয়ন্ত্রণকারী), আর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৭ শতাংশ থাকত দরিদ্র মানুষ (‘বঙ্গবন্ধুহীন’ বাংলাদেশে এখন মোট জনসংখ্যার ৬৫.৯ শতাংশ বহুমুখী দরিদ্র) যারা বংশপরম্পরা বা চিরস্থায়ী দরিদ্র হতেন না, হতেন অস্থায়ী-স্বল্পকালীন-আপদ-বিপদকালীন দরিদ্র। ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশে একদিকে ধনীর সংখ্যা এখনকার তুলনায় ৪১ গুণ কমে যেত, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে যেত প্রায় ৯৯ গুণ, আর অন্যদিকে বেড়ে যেত মধ্যবিত্ত গ্রুপে মানুষের সংখ্যা যা এখন মোট জনসংখ্যার ৩১.৩ শতাংশ তা দাঁড়াত মোট জনসংখ্যার ৯৯.৩ শতাংশে। এ ক্ষেত্রে গুণগত যে পরিবর্তনটা হতো তা হল উচ্চ-মধ্যবিত্তের আপেক্ষিক সংখ্যা এখনকার মোট জনসংখ্যার ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াত ৪৯.৭ শতাংশে, মধ্য-মধ্যবিত্তের সংখ্যা এখনকার ৯.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াত ৩৪.৭ শতাংশে, আর নিম্ন-মধ্যবিত্তের সংখ্যা এখনকার ১৬.৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াত ১৪.৯ শতাংশে। অর্থাৎ ‘বঙ্গবন্ধুসহ’ বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকত না, মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশই হতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত (৫০ শতাংশ) ও মধ্য-মধ্যবিত্ত (৩৫ শতাংশ), আর দরিদ্র মানুষ বলতে তেমন কেউই থাকত কিনা সন্দেহ। কারণ এ গ্রুপে আজকের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়াত ০.৭ শতাংশে, সেটাও আবার অস্থায়ী-স্বল্পকালীন-আপদকালীন দরিদ্র মানুষ।
বঙ্গবন্ধুর প্রগতিবাদী উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন মানুষের জন্মসূত্রে অথবা বংশপরম্পরা অথবা পেশাগত অথবা ধর্ম-বর্ণ-জাতি গোষ্ঠীগত দরিদ্র হওয়ার কোনো সুযোগই থাকত না, আর অন্যদিকে সম্পদ আর্থ-সামাজিক শ্রেণী মই-এর উপরতলায় ধাবিত-প্রবাহিত-পুঞ্জীভূত হওয়ারও কোনো সুযোগ থাকত না।

আবুল বারকাত রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সমাজ ও রাজনীতি

শিল্প-সাহিত্য

ক্রীড়া

এবার আকাশে ওড়ার পালা

ফুটবলে আশার আলো মেয়েরা। সেই আলোটা দেখাচ্ছে কৃষ্ণা-সানজিদারা।…

ফটো গ্যালারি

বাবু বরকতউল্লাহ'র ফটোগ্রাফি

ভিডিও গ্যালারি

ফিচার

সৌদি মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের মরুদ্যান

মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। ঊষর মরুর ধূসর বুকেই কিনা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবুজের জয়গান! মরুভূমির ধুলাবালির মাঝে গড়ে উঠছে কৃষিখামার।…

বিনোদন

বাংলাদেশি মেয়েরা হবে মিস ওয়ার্ল্ড!

এবার বাংলাদেশি মেয়েরা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে মিস ওয়ার্ড প্রতিযোগিতায়। চলতি বছর ১৮ নভেম্বর চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার…

বাজার ও অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকারের রেকর্ড

সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার, যা এ…

রাজধানী

বইয়ের জগৎ

রাতের প্রতিপক্ষ একটি বাতি

অনাত্মীয় সুতোদোর টানাপোড়েনে তৈরি যে ঘনবদ্ধ কাপড় তা আপনার দেহকে ডেকে রাখবে সত্যি কিন্তু মনের আবেগকে না। অন্যের কাছে আত্মীয়হীন…

ইভেন্ট