বিজয়ের ৪৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিমত

Scream
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নানা আয়োজনে বিজয়ের ৪৫তম বিজয় বার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশের মানুষ। মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এ দিনটিতে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার শপথ নেয় বাংলাদেশিরা।

শোষণ বৈষম্যহীন স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে, ১৯৭১ সালের এইদিনে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ স্বাধীনতার এত বছরে কতটুকু এগিয়েছে? কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন? জানতে চেয়েছিলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন অর রশীদ বীর প্রতীকের কাছে।

আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, একটা পতাকা, মানচিত্র পেয়েছি। এদেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না। দেশের অবকাঠামোর প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের জয় জয়কার। আর এ সবই হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই। কিন্তু আদর্শগতভাবে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল, তা এখনও অনেক দূরে


তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আকাশচুম্বী যে স্বপ্ন ছিল, তার কিছু পূরণ হয়েছে আবার কিছু হয়নি। কিন্তু আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, একটা পতাকা, মানচিত্র পেয়েছি। এদেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না। দেশের অবকাঠামোর প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের জয় জয়কার। আর এ সবই হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই। কিন্তু আদর্শগতভাবে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল, তা এখনও অনেক দূরে। এরজন্য আরও সংগ্রাম করতে হবে বলেও জানান এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

আরেক বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরে অনেক পরিশ্রম করেছে এদেশের মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে দেশ এগিয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যে উচ্চতায় থাকার কথা ছিল, সেটা অর্জন করা যায়নি। দেশে দক্ষ ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিভাজিত করার কারণেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুল ত্রুটি শোধরানোর যেমন সুযোগ দিতে হয়, তেমনি ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসও নিতে হয়। কিন্তু সেটা হয়নি বলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকে ঐক্যের প্রতীক করা হলে এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকে ঐক্যের ধারক বানানো হয়, তাহলে দেশ আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। মানুষ আরও বেশি পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশকে এগিয়ে নিতে কিছু পরামর্শও তুলে ধরেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, অতীতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসঙ্গে ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে দেশের তরুণ সম্প্রদায়কে প্রযুক্তিমুখী করতে হবে। তাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পমুখী করতে হবে। তাহলেই দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।#

পার্সটুডে-এর সৌজন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সমাজ ও রাজনীতি

শিল্প-সাহিত্য

ক্রীড়া

এবার আকাশে ওড়ার পালা

ফুটবলে আশার আলো মেয়েরা। সেই আলোটা দেখাচ্ছে কৃষ্ণা-সানজিদারা।…

ফিচার

সৌদি মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের মরুদ্যান

মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। ঊষর মরুর ধূসর বুকেই কিনা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবুজের জয়গান! মরুভূমির ধুলাবালির মাঝে গড়ে উঠছে কৃষিখামার।…

বিনোদন

মা হচ্ছেন সুনিধি চৌহান

সোমবার ছিল বলিউড গায়িকা সুনিধি চৌহানের ৩৩তম জন্মদিন। আর এদিনই জানালেন খুশির খবরটি, মা হতে চলেছেন এই গায়িকা। সম্প্রতি সুনিধি…

বাজার ও অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকারের রেকর্ড

সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার, যা এ…

রাজধানী

বইয়ের জগৎ

An error occured during creating the thumbnail.

রাতের প্রতিপক্ষ একটি বাতি

অনাত্মীয় সুতোদোর টানাপোড়েনে তৈরি যে ঘনবদ্ধ কাপড় তা আপনার দেহকে ডেকে রাখবে সত্যি কিন্তু মনের আবেগকে না। অন্যের কাছে আত্মীয়হীন…

ইভেন্ট

An error occured during creating the thumbnail.

মায়ের প্রতি ভালবাসা

আজ ১৪ মে রোববার বিশ্ব মা দিবস। মা দিবস একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক…