পলল প্রকাশনী

অন্ধকারে শৈল্পিক বাতিঘর

Scream
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  • জব্বার আল নাঈম
    কবিতা উপমা, উৎপ্রেক্ষা, নান্দনিকতা, কল্পনা, বাস্তব ও পরাবস্তবতার মিশ্রণ। কবি ও কবিতা ধারার কাছাকাছি হলেও সত্তা এবং ক্রিয়া আলাদা। কবিতা কবির আরাধনা, মুক্ত চিন্তার বাস্তবায়ন, শব্দশৈলী ও চিন্তার কৌশল। মূলত কবিতা সৃজনশীলতার প্রকাশ আর সৃজনশীল হলো প্রসেস, প্রমিতি, প্রমার প্রতিভাস, এটা স্বতঃস্ফূর্ত, অসাধ্য সাধনের মহাসাধনা, মহত্ত্ব ধ্যানের ধাত্রীবিদ্যা। এসব উচ্চারণে প্রয়োজন ভাষা, শব্দ, সময়, সুষমা, অলঙ্কার শৈলী, সূত্র প্রয়াস, জ্ঞান- বিজ্ঞান, মুক্ত কল্পনা, তন্ময়-মন্ময় এর আন্তরিক যোগসূত্র। কবিতা কখনো বলে কয়ে আসে না। প্রয়োজন আরাধনা প্রস্তুতি পর্ব। এসবের সম্মিলিনে কবিতার ক্যাপ্টেন ও সব্যসাচী লেখক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কবিতায় রয়েছে কার্যকর দ্রাঘিমা। তিনি শব্দশিল্পকে শাণিত করে কবিতার গিটার বাজিয়ে চলছেন অবিরাম। আর কবি মনের অনুভবে প্রকাশ ঘটিয়ে পৌছে যাচ্ছেন আলোর দরজায়। শৈল্পিক সুন্দরের দিকে। চিত্রকল্প, ভাব-বোধ, সমন্বিত সমাজ ও ইতিহাস, যাপিত জীবন ও বাস্তবতার মিশেলে নির্মিত ‘অন্ধকারের শিল্প’ কাব্যগ্রন্থটি।

    আমার মতে, কবিতার প্রয়োজনে প্রয়োজন বাস্তব অতিবাস্তব ও অবাস্তবের লজিক, পুরো লেখায় যে ম্যাজিক থাকবে এমনটাও নয়। “অন্ধকারের শিল্প” কাব্যে-
    দিনটা আস্তে আস্তে অন্ধকারের দিকে যায়/ তারপর সন্ধ্যা তারপর রাত।/ অন্ধকারের শিল্প যারা করেছেন রামব্রান্ডট তাদের অন্যতম/ আমি রামব্রান্ডটের কথা ভাবতে ভাবতে তোমার কথা ভাবি।
    সৃজনশীলতার বহুমাত্রিকতা তখনই উন্মোচিত হয় যখন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও প্রতিভাকে ক্যাপশন থেকে প্যাশনে রূপান্তর ঘটানো সম্ভব। তখন সে হয় ধ্রুপদী প্রজ্ঞার বড় শিল্পী এবং মানুষ। একজন মানুষই একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের একজন রক্ষক কিংবা অন্যকিছু। “কাঠের সিঁড়িতে” কবির বাস্তব রূপায়ন-
    “কাঠের সিঁড়িতে আমি পড়ে গিয়েছি/ আমার ছেলে দৌড়ে এসে আমাকে তুলে ধরেছে।/ আমার বাবা নেই মা নেই স্ত্রী নেই/ বারবার আমি পড়ে যাই/ আমি পিছন ফিরে তাকাই/ কতদূর জীবন পিছনে ফেলে এসেছি।” সোনালী সময় হারিয়ে বারবার দেশ পড়ে যাচ্ছে অতল অন্ধকারে, স্বজনহীন দেশ অন্ধ আরাধনায় ব্যস্ততার কড়ি গুণছে। কবির চোখে নিজের পড়ে যাওয়ার মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন, অন্ধকারে পতিত হচ্ছে সকল সম্ভাবনা, দেশ ও জাতি। বাংলাদেশ বার বার দাঁড়াতে গিয়েও দাঁড়াতে পারছে না।

    নিত্যদিনের কষ্টগুলো নান্দনিক নৃত্যে হাড় দিয়ে তবলা বানিয়ে কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বলতে পারেন ‘আমাদের হাড় থেকে’ কবিতায়- “আমরা রং বানাই আমাদের হাড় থেকে/ আমাদের শিল্প।” আগামি দিনের কথা কবির কলমে সুস্পষ্ট। কবি আগামি দিনের সুন্দর কিংবা অসুন্দর সবই দেখতে পান। সত্যের চেয়ে বেশি না হলেও কিছুটা সত্যের সমান। আর এ সত্যকে ধারন করে কবির কবিতাজীবন।

    ড. জাহাঙ্গীরের লেখায় প্রতীয়মান হয় যে, সুন্দরের প্রতিধ্বনি, বাস্তব ও অবাস্তবের শ্লোগান। জীবনকে ওলট-পালট করে দেখা। প্রেম, কাম ও দার্শনিকতার ছোয়ায় পরিশুদ্ধিতা। বস্তুপুঞ্জের শৈলী, স্মরণীয়- অবিস্মরণীয় ভাব ও বোধ, বর্ধনশীল দৃশ্য, নিখুঁত সত্য সৌন্দর্য, মাল্যদানে শোভা, প্রেষণা, অনুপ্রেরণায় এমন ভাগ্যচক্রের প্রকাশিত সংলাপে পাওয়া যায় কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সাহিত্য সৌন্দর্যের বিনিমার্ণ। সেই নিমার্ণের আরেকটি অধ্যায় ‘অন্ধকারের শিল্প’। শিল্পের জমিনে কবির আবাদ দীর্ঘ জীবন। যেখানে ফুটেছে ফুল, পাপড়ি ও ফসল। ফুল, পাপড়ি ও ফসলের ভেতরেই একজন কবির আবাসস্থল-
    “আমি আস্তে আস্তে শিখেছি/ কোন কিছুই আমার না,/ না ধানক্ষেত না নদী না নক্ষত্র।” মোহমুক্ত কবির মুখেই এমন কথা মানায়। আসলেই তো এইসব চেনা জানা কিছুই আমাদের না। কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর লোভের বাইরে গিয়ে অন্ধকার শিল্পকে আলোকিত করার প্রয়াসে, ক্লান্তিহীনভাবে সাহিত্যের পথ প্রশস্ত করে যাচ্ছেন।
    অগ্রজ চিন্তার মানুষ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ‘অন্ধকারের শিল্প’ কাব্যগ্রন্থে রয়েছে, শব্দের নন্দন ও চিন্তার আভিজাত্য। কবিতার শব্দে কোন উত্তেজনা নেই, আছে সহজ সাবলীল ভাষায় কঠিনকে উপস্থাপনা করে যেতে পারার সক্ষমতা। যা পাঠককে হৃদয়াঙ্গম করে। যার ফলে, ড. জাহাঙ্গীরের কবিতা সাধারণ মানুষের কথা। গ্রামীণ পরিচিত সমাজের কথা বলে।
    বরং ‘মাথায় ক্রোধ নিয়ে’ কবিতায় লিখেন-
    “মাথায় ক্রোধ নিয়ে বৌদ্ধ হওয়া যায় না/ আমি বৌদ্ধ হতে চাই/ আমি পৃথিবীর দিকে কান পেতে রাখি/ হলুদ হচ্ছে পৃথিবী/ সবুজ হচ্ছে পানি/ … মাথায় ক্রোধ নিয়ে মানুষ খুন করা যায়/ বৌদ্ধ হওয়া যায় না।” কবিতার মতোই যাপিত জীবন এই কবির। সত্যের পক্ষে থেকে সুন্দরের দিকে আসার আজন্ম আহ্বান। মাথা ঠান্ডা রেখে সামনে যাওয়ার চিন্তা করতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে। এখানে একজন কবি সমাজ, জাতি, দেশ ও বিশ্বের অগ্রজ চিন্তার অন্যতম প্রতিনিধি। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ‘অন্ধকারের শিল্প’ কাব্যগ্রন্থ সেসবের ইঙ্গিত বহন করে চলছে।

    অন্ধকারের শিল্প ।। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
    প্রকাশকঃ জার্নিম্যান বুকস ।। প্রচ্ছদঃ জার্নিম্যান
    ( শিল্পী গণেশ হালুই শিল্পকর্ম অবলম্বনে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সমাজ ও রাজনীতি

শিল্প-সাহিত্য

ক্রীড়া

এবার আকাশে ওড়ার পালা

ফুটবলে আশার আলো মেয়েরা। সেই আলোটা দেখাচ্ছে কৃষ্ণা-সানজিদারা।…

ফিচার

সৌদি মরুভূমিতে বাংলাদেশিদের মরুদ্যান

মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। ঊষর মরুর ধূসর বুকেই কিনা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবুজের জয়গান! মরুভূমির ধুলাবালির মাঝে গড়ে উঠছে কৃষিখামার।…

বিনোদন

মা হচ্ছেন সুনিধি চৌহান

সোমবার ছিল বলিউড গায়িকা সুনিধি চৌহানের ৩৩তম জন্মদিন। আর এদিনই জানালেন খুশির খবরটি, মা হতে চলেছেন এই গায়িকা। সম্প্রতি সুনিধি…

বাজার ও অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকারের রেকর্ড

সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার, যা এ…

রাজধানী

বইয়ের জগৎ

An error occured during creating the thumbnail.

রাতের প্রতিপক্ষ একটি বাতি

অনাত্মীয় সুতোদোর টানাপোড়েনে তৈরি যে ঘনবদ্ধ কাপড় তা আপনার দেহকে ডেকে রাখবে সত্যি কিন্তু মনের আবেগকে না। অন্যের কাছে আত্মীয়হীন…

ইভেন্ট

An error occured during creating the thumbnail.

মায়ের প্রতি ভালবাসা

আজ ১৪ মে রোববার বিশ্ব মা দিবস। মা দিবস একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক…